ইবি শিক্ষার্থী সাজিদের মৃত্যু, ভিসেরা রিপোর্টে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধজনিত কারণে, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ফরেনসিক ভিসেরা রিপোর্টে। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রিপোর্টের কপি প্রতিবেদকের হাতে আসে।

বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ডিভিশনের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নজরুল ইসলাম এবং বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার, খুলনার রাসায়নিক পরীক্ষক জনি কুমার ঘোষ স্বাক্ষরিত রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।

রিপোর্টের তথ্যমতে, লাশ পোস্টমর্টেমের প্রায় ৩০ ঘণ্টা আগে (অর্থাৎ ১৬ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে) সাজিদের মৃত্যু হয়। সাজিদের শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে শ্বাসরোধের (asphyxia) ফলে সাজিদের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী মেডিকেল অফিসার বলেন, রিপোর্টের তথ্যমতে দম বন্ধ করে বা শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে সাজিদের রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়ে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট আজকের মধ্যে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ভিসেরা রিপোর্টে যেটা এসেছে সেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড।

এর আগে, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১৮ জুলাই সকালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ২১ জুলাই প্রকাশিত ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আনুমানিক সময় উল্লেখ থাকলেও মৃত্যুর ধরন ও কারণ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয় রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য।

সাজিদের মৃত্যু ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয় তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ। মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেন।

Check Also

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ভারতের ওপর শুল্ক বসানোর পথে বাংলাদেশ

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ভারত থেকে তুলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *