‘অশুভ’ চীনে তলিয়ে গেছে ভারত-রাশিয়া, তবে মোদি আমার ভালো বন্ধু: ট্রাম্প

নতুন বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তুলতে বেইজিংয়ের তৎপরতা এবং তাদের সঙ্গে নয়াদিল্লি-মস্কোর সখ্যতায় চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অতল, অশুভ’ চীনে তলিয়ে গেছে ভারত ও রাশিয়া। তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব ধরে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চলতি সপ্তাহে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বেইজিং গিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাদের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প লিখেছেন, মনে হচ্ছে অতল, অশুভ চীনের কাছে আমরা ভারত ও রাশিয়াকে হারিয়েছি। তাদের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ কামনা করি!

চীনের বন্দর নগরী তিয়ানজিনে আয়োজিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশন বা এসসিও) সম্মেলনে অ-পশ্চিমা ২০ জনের বেশি নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন শি। সেখানেই একসঙ্গে ফ্রেমবন্দি হন শি-পুতিন-মোদি।

তবে ওইদিনই পরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, চীনের কাছে ভারত ও রাশিয়াকে খুইয়েছি বলে মনে করি না। তবে রাশিয়ার কাছে থেকে এত বেশি তেল কেনায় আমি ভারতের ওপর হতাশ। আমি সেটা তাদের জানিয়েও দিয়েছি।

মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, মোদি অসাধারণ একজন প্রধানমন্ত্রী। আমি সবসময়ই তার বন্ধু থাকব। আর ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা বিশেষ ধরনের। তবে মোদির নির্দিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ড আমার পছন্দ হয়নি। অবশ্য এগুলো নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। মাঝেমধ্যে এরকমটা হতেই পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের খেদ প্রকাশ করা পোস্ট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এ বিষয়ে বক্তব্য নেই বলে জানায় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদকের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। আর ক্রেমলিনের কোনও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদসূচক পোস্ট দিয়েছেন মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, আমাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুভূতি ও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। আমরা এর মর্ম গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও আমরা একই মনোভাব পোষণ করি।

ওই পোস্টে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভবিষ্যতমুখী এবং খুবই ইতিবাচক একটি সামগ্রিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারত্ব রয়েছে।

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে বাগে আনতে পারার ব্যর্থতা এবং সংশ্লিষ্ট কিছু কারণে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে ভারতের ওপর। রুশ তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে পরোক্ষ অর্থায়নের জন্য ভারতের ওপর ব্যাপক শুল্ক চাপিয়ে দেন তিনি। ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা নিয়ে নমনীয় হওয়ার বদলে ভারতের নির্লিপ্ত অবস্থান দেখে যেন আরও চটে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এসব নিয়ে কিছুদিন ধরে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে।

রাশিয়া ও ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগের ফলে দুদেশকেই আপাতদৃষ্টিতে চীনের দিকে ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে। তবে কিছুদিন আগের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, রুশ-চীন সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করছেন না তিনি।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

Check Also

ভূমিকম্পে কাঁপল মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে হরাত আল-শাকা এলাকায় ৩ দশমিক ৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *