জুলাই বিপ্লবের ফ্রন্টলাইনার তাহরিমা জামান সুরভীর আইনজীবীর সাথে কথা বলে এবং বিশ্বস্ত সাংবাদিক সূত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একটি ছবি ব্যবহার করে নিজেকে তাঁর ‘সন্তানতুল্য’ ও ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই প্রভাব খাটিয়েই তিনি সুরভীর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন।
ঘটনার সূত্রপাত আরও আগে। দুর্জয় একসময় সুরভীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং কক্সবাজার ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। সুরভী সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি জনসমক্ষে আসায় দুর্জয়ের ইগোতে চরম আঘাত লাগে।
দুর্জয় ছিলেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নিউজ কাভার করতেন মূলত তিনি। ঘটনার দিন দুর্জয় অফিসের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র অসৎ উদ্দেশ্যে সুরভীকে বাগে আনার জন্য গাজীপুরে যান। সেখানে শহীদ হাদী ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে সুরভী তাকে দেখতে পেয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়া ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে গাজীপুরে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষ দুর্জয়কে চাকরিচ্যুত করে। জানা গেছে, পরবর্তীতে চলতি মাসের এক তারিখে তিনি ‘কালবেলা’ পত্রিকায় যোগ দিয়েছেন।
মূলত সুরভীর কাছে প্রত্যাখ্যান, ফেসবুকে প্রতিবাদ, জনসমক্ষে ‘ভুয়া’ স্লোগান শোনা এবং এর জেরে চাকরি হারানো—সব মিলিয়ে দুর্জয় চরম প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। এই আক্রোষ থেকেই তিনি সংঘবদ্ধ মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মিথ্যা সংবাদ প্রচার করান, যার কোনো ভিত্তি মামলার এজাহারেও নেই।
সুরভী যেহেতু ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন, তাই প্রশাসন কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এটি স্পষ্টতই ব্যক্তিগত আক্রোষ থেকে করা একটি হয়রানিমূলক পদক্ষেপ।
আমরা স্পষ্টভাবে সুরভীর পাশে আছি। জুলাই বিপ্লবের একজন যোদ্ধার গায়ে কোনো ফুলের টোকাও আমরা মেনে নেব না। অবিলম্বে সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।
(সাংবাদিক মারফত পরবর্তীতে পাওয়া তথ্য যুক্ত করে পুনরায় লেখা হলো)
Bekar Barta