বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ সরলে ভারতের কতটুকু ক্ষতি, জানাল দেশটির গণমাধ্যম

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাবনা আছে বিসিবির দাবি মেনে নিতে পারে আইসিসি। তবে মাত্র ১ মাস আগে বাংলাদেশের ম্যাচ যদি সরিয়েই নেয়া হয়, তাহলে ভারতের আয়ে তার প্রভাব পড়বে।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেয়া হলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সম্প্রচার বা আইসিসির কেন্দ্রীয় ইভেন্ট আয়ে বড় কোনো ক্ষতি হবে না। তবে এতে ভারতের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুতে ম্যাচ-ডে আয় এবং স্থানীয় স্পনসরশিপ ও অ্যাক্টিভেশন ভ্যালু কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যদিও আর্থিক ক্ষতির ব্যাপারটি অনেকটাই নির্ভর করছে আইসিসির ওপর। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পুরোপুরি সরানো হবে, অদলবদল করা হবে, নাকি বিকল্প ম্যাচ দিয়ে পূরণ করা হবে; আইসিসির এই সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ভারতের আর্থিক ক্ষতি কতটুকু হবে।

বাংলাদেশের ম্যাচ কবে ও কোথায়
গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর শেষ গ্রুপ ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, নেপালের বিপক্ষে। ইডেন গার্ডেন্সের ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার এবং ওয়াংখেড়ের ৩৩ হাজার। চারটি বাংলাদেশ ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার আসনের টিকিট ছিল।

আইসিসি জানিয়েছে, ভারতের ম্যাচের টিকিট শুরু হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে। অফিসিয়াল টিকিটিং ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশ–ইতালি ম্যাচের টিকিট ১০০ টাকা থেকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ–বাংলাদেশ ম্যাচের টিকিট ৩০০ টাকা থেকে এবং মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ–নেপাল ম্যাচের টিকিট ২৫০ টাকা থেকে বিক্রি হওয়ার কথা ছিল।

বিসিসিআইয়ের প্রকৃত ক্ষতি কোথায়
আইসিসির ভারতীয় টিকিটিং নীতিমালা অনুযায়ী, টিকিটের মালিকানা থাকে আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের (আইবিসি)। বিসিসিআই এখানে মূলত আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। অর্থাৎ, গেট মানির পুরোটা বিসিসিআইয়ের নয়; বরং ম্যাচ আয়োজন, অপারেশন, স্থানীয় স্পনসরশিপ, হসপিটালিটি ও ম্যাচ-ডে উদ্বৃত্ত থেকেই তাদের আয় আসে।

যে তিনটি পরিস্থিতি হতে পারে
১) ম্যাচগুলো যদি ভারত থেকে সরিয়ে নেয়া হয় এবং ভেন্যুতে কোনো বিকল্প ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি টাকার সমপরিমাণ আয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হিসাবটি ধরা হয়েছে ৬০–৯০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতি এবং গড়ে ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা টিকিট মূল্য হিসাব ধরে।

২) বাংলাদেশের ম্যাচ সরানো হলেও ভারতের ভেন্যুগুলোতে অন্য ম্যাচ দিয়ে পূরণ করা হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে যাবে। এখানে মূল পার্থক্য হবে দর্শকের চাহিদায়। বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের ম্যাচের মতো চাহিদা নিশ্চয়ই বাংলাদেশ-ইতালি ম্যাচে হবে না।

৩) আইসিসি যদি ভারত–শ্রীলঙ্কা সূচির ভেতরেই ভেন্যু বা তারিখ অদলবদল করে, তবে আয়ের ক্ষতি তেমন হবে না। এ ক্ষেত্রে মূল প্রভাব পড়বে লজিস্টিক ও নতুন করে পরিকল্পনার খরচে।

Check Also

মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ‘ফাঁ’স’

আলোচনায় থাকা মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ‘ফাঁস’ করল ভারতের গণমাধ্যম। তারকা এই ক্রিকেটারকে আইপিএল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *