ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (AEOI)-এর মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দেশটিতে আরও পাঁচটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এগুলো বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়েও বড় হবে।
মস্কোতে আয়োজিত রাশিয়ার ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাটম উইক (WAW)’–এর অ্যাটম এক্সপো ২০২৫ প্রদর্শনীর ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য দেন। সেখানে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী।
কামালভান্দি বলেন, এই সফর বহুমুখী উদ্দেশ্য নিয়ে হয়েছে। এতে শুধু আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও ইসলামী’র নীতিগত বক্তব্য উপস্থাপনই নয়, বরং রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা এবং অগ্রগতি অর্জনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি রাশিয়ার সহযোগিতায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, এ কেন্দ্র সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানি মুখপাত্র আরও জানান, আলোচনায় বিশেষভাবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার চারটি ইউনিট নির্মিত হবে।
রাশিয়ান কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড অ্যাটম উইক ২০২৫ হচ্ছে বৈশ্বিক পারমাণবিক খাতের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমাবেশ, যা রাশিয়ার পারমাণবিক শিল্পের ৮০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি-ও অংশ নেন এবং পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রদর্শনীতে ইরানও নিজস্ব প্যাভিলিয়ন স্থাপন করেছে, যেখানে ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দর্শনার্থীরা ইরানসহ বিভিন্ন দেশের পারমাণবিক শিল্পের সর্বশেষ সাফল্য সরাসরি দেখতে পারবেন।
সূত্র:IRNA
Bekar Barta