দুই দিন আগে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, তার আতঙ্ক এখনও কাটেনি মানুষের মনে। সেই প্রধান কম্পনের পর ইতোমধ্যে তিন দফা আফটার শক অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কমে যায়নি; চলতি মাসেই আরও কয়েকটি ভূমিকম্প ঘটতে পারে।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক ছোট ও মাঝারি কম্পনগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ইঙ্গিত বহন করছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এমনিতেই বেশি ঝুঁকিতে আছে। তবে নতুন এই উদ্বেগের মধ্যেও দেশের কিছু অঞ্চল অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জোনে রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প ঝুঁকি মানচিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশকে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে—উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জোন-১, মাঝারি ঝুঁকির জোন-২ এবং নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ জোন-৩।
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ জোন-১
সাম্প্রতিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্ভাব্য বড় ভূমিকম্পে ঢাকার চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চল। জোন-১ এ অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলো হলো—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অংশ (রাঙামাটি, বান্দরবান)।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ জোন-২
এই জোনে রয়েছে ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, নোয়াখালী, বগুড়া এবং রাজশাহী বিভাগের বড় অংশ। এদের তুলনায় দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অপেক্ষাকৃতভাবে নিরাপদ হিসেবেই বিবেচিত।
নিম্নঝুঁকিপূর্ণ জোন-৩
জোন-৩ এ রয়েছে—
খুলনা বিভাগ: খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি
রাজশাহীর পশ্চিমাংশ: (যদিও বিভাগের কিছু অংশ জোন-২ এ অন্তর্ভুক্ত)
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, কিছু অঞ্চল বড় ভূমিকম্পের উৎসস্থল না হলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সেগুলোও ঝুঁকিমুক্ত নয়। নির্মাণমান খারাপ হলে কম মাত্রার কম্পনেও বড় ক্ষতি হতে পারে।
বাংলাদেশের পাঁচটি প্রধান ভূমিকম্প উৎপত্তিস্থল
বাংলাদেশের চারপাশে অবস্থিত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপত্তিস্থল হলো—
১. প্লেট বাউন্ডারি–১: মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী
২. প্লেট বাউন্ডারি–২: নোয়াখালী থেকে সিলেট
৩. প্লেট বাউন্ডারি–৩: সিলেট হয়ে ভারতের দিক
৪. ডাউকি ফল্ট: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকা
৫. মধুপুর ফল্ট: দেশের মধ্যাঞ্চল
এসব অঞ্চল অতীতে বড় ভূমিকম্পের উৎস হিসেবে পরিচিত, তাই এখনো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
Bekar Barta