যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ভারতের ওপর শুল্ক বসানোর পথে বাংলাদেশ

গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ভারত থেকে তুলা ও সুতা আমদানির বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং একটি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে। ভারতীয় সুতা রপ্তানিকারকদের উদ্ধৃতি দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস এই তথ্য জানিয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় শিল্প সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের ট্রেড রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানিকৃত সুতার ওপর শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে। বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশ। যদি এই শুল্ক কার্যকর হয়, তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দাম কমে যেতে পারে, যা সরাসরি ভারতের কৃষক ও সুতাকলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। গত কয়েক সপ্তাহে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি সামনে এল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি বা শুল্ক আরোপ করতে পারে। নয়াদিল্লি ভিত্তিক বিশ্লেষক রাহুল চৌহান হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, এই পদক্ষেপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দামের পুনরুদ্ধারে বাধা দিতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের শুল্কমুক্ত আমদানির কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দাম ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও যুক্ত করা হয়েছে যে, দুর্বল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর ২০২৫ সালের মে মাসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ফলে বাংলাদেশের প্রায় ৪৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য বা ভারতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

ডিএনএ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবারের (৫ জানুয়ারি) বৈঠকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ভারত থেকে তুলা ও সুতা আমদানির বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। গত বছর ভারত ৩.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সুতা রপ্তানি করেছিল, যার মধ্যে বাংলাদেশ ছিল এককভাবে বৃহত্তম আমদানিকারক। ভারত বাংলাদেশের তুলা ও সুতার প্রধান সরবরাহকারী হলেও চীন বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য ফিনিশড ফেব্রিক বা তৈরি কাপড়ের শীর্ষ রপ্তানিকারক।

ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। খুনি হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা ঢাকা নাকচ করে দিয়ে বলেছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কোনো পদ্ধতিগত নিপীড়ন নয়।

Check Also

নারী কনস্টেবলকে ৮ বছর ধরে গণধর্ষণ ৩ পুলিশ সহকর্মীর

রাজস্থানের চুরু জেলায় এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে গত আট বছর ধরে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *