রাজস্থানের চুরু জেলায় এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে গত আট বছর ধরে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) এবং আরও দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট চারজন।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) কর্মকর্তারা ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী কনস্টেবলের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি যখন সরদারশহর থানায় কর্মরত ছিলেন, তখন এক পুলিশ কনস্টেবল এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মদ্যপান করিয়ে এই জঘন্য কাজ করা হয়। এরপর থেকে তারা ক্রমাগত তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন।
২০২৩ সালে ওই নারী সিধমুখ থানায় বদলি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেখানে কর্মরত স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং অন্য এক কনস্টেবল পূর্ববর্তী অভিযুক্তদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তারাও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত দুই বছর ধরে ওই নারীকে ধর্ষণ ও হুমকি দিতে শুরু করেন।
চুরু জেলার (রাজগড়) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিচপাল সিং জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে অভিযোগ জানানোর পর ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাতে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রিচপাল সিং বলেন, “গত সপ্তাহে তিনি এসপি জয় যাদবের কাছে বিষয়টি জানান। এরপরই তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়, যেখানে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তবে অন্যান্য তথ্য এবং অভিযোগগুলো এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবার ধর্ষণের শিকার হন। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশ কনস্টেবল এবং অন্যজন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী। একটি সরকারি অ্যাসাইনমেন্ট চলাকালীন তাদের সাথে ওই নারীর পরিচয় হয়েছিল। একদিন তারা তাকে আমন্ত্রণ জানান এবং মদ্যপান করিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
রিচপাল সিং জানান, “সেই সময় তিনি সরদারশহর থানায় কর্মরত ছিলেন।” অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি এরপর থেকেই তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ।
২০২৩ সালে যখন ওই নারী কনস্টেবল জেলার সিধমুখ থানায় বদলি হন, তখন জানতে পারেন যে তার তৎকালীন বস অর্থাৎ স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) এবং অন্য এক কনস্টেবল আগের ওই দুই অভিযুক্তের পূর্ব পরিচিত ছিলেন। আগের অভিযুক্তরা ওই নারীর অতীত সম্পর্কে তাদের জানিয়ে দেয়।
পুলিশ সুপার সিং বলেন, “এরপর নতুন ওই কর্মকর্তারাও তাকে ভয় দেখাতে শুরু করেন এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করেন।”
ভুক্তভোগী ওই নারী পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন যে, এতদিন ভয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে মুখ খুলতে পারেননি। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
Bekar Barta