বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মিজানুর রহমান চৌধুরী নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বসা একটি ছবি সংযুক্ত করে দিয়েছেন।
মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ছাতক উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান।
আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য মনোননয়পত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়। এ আসনে বিএনপি থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে।
ছাতক-দোয়ারায় ২০১৮ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়ে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। ভোট ডাকাতির ওই নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট পেয়েছিলেন। উক্ত আসনে তার রয়েছে বিরাট কর্মী-সমর্থক বাহিনী। মিজান চৌধুরীর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় বেশ বেকায়দায় পড়েছিলেন দল মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
মিজানুর রহমান চৌধুরী তার ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তার আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করেছিলাম। কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাকে গতকাল (৯ জানুয়ারি) তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও আবেগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবুও দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের অনুরোধ উপেক্ষা করে আমার জন্য অনেক কঠিন। এমতাবস্থায় আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি আমার এ সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে কষ্ট পাবেন, বিরক্ত হবে। কারণ ইতোমধ্যে আমার জন্য আপনারা অসম্ভব ত্যাগ শিকার করেছেন। আমি আপনাদের সীমাহীন ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যেভাবে আপনারা আমাকে সুখে-দুঃখে পাশে পেয়েছেন ভবিষ্যতেও সেভাবে আমাকে আপনারা পাশে পাবেন। আমি ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে দীর্ঘ যুগেরও বেশি সময় জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমার রাজনৈতিক আদর্শ। আপসহীন দেশনেত্রী গণতন্ত্রেও মাতা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আমার প্রেরণা। শহীদ জিয়া ও ম্যাডাম জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমান আমাদের অভিভাবক। আর আপনারা ছাতক ও দোয়ারাবাজারবাসী আমার আত্মার আত্মীয়। দল ও আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে আমি বাকী জীবন চলতে চাই। তিনি তার নেওয়া সিদ্ধান্তকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য ছাতক ও দোয়ারাবাজারবাসীর সর্বস্তরের মানুষের অনুরোধ জানিয়েছেন।
Bekar Barta