বিমান দুর্ঘটনায় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। একটি কনসার্টে অংশ নিতে যাওয়ার পথে ব্যক্তিগত বিমান দুর্ঘটনায় তিনিসহ সব আরোহী নিহত হন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সানফ্রান্সিসকো ক্রোনিকলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কলম্বিয়ার জনপ্রিয় সংগীতধারার অন্যতম শীর্ষ শিল্পী ও গীতিকার ইয়েইসন হিমেনেজ একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় সাম্প্রতিক কনসার্টের মাধ্যমে যিনি নিজের জনপ্রিয়তা আরও বিস্তৃত করেছিলেন। তার মৃত্যুতে কলম্বিয়া ও লাতিন আমেরিকার সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কলম্বিয়ার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী ইয়েইসন হিমেনেজ শনিবার একটি কনসার্টে অংশ নিতে মেডেলিনে যাচ্ছিলেন। তবে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই মধ্য কলম্বিয়ার পাইপা ও দুইতামা শহরের মাঝামাঝি এলাকায় ব্যক্তিগত বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জনের সবাই নিহত হন।
ইয়েইসন হিমেনেজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় ও ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য কষ্ট নিয়ে আমরা ইয়েইসন হিমেনেজের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। আজ আমরা শুধু একজন শিল্পীকেই নয়, একজন সন্তান, ভাই, বন্ধু এবং স্বপ্ন ও সাহসে ভরপুর একজন মানুষকে বিদায় জানালাম—যিনি নিজের জীবনসংগ্রামকে হাজারো মানুষের আশায় রূপ দিয়েছিলেন।
নিহত অন্য পাঁচজন হলেন—বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ফের্নান্দো তোরেস এবং যাত্রীরা জেফারসন ওসোরিও, হুয়ান ম্যানুয়েল রোদ্রিগেজ, অস্কার মারিন ও ওয়েইসম্যান মোরা। মোরা দীর্ঘদিন ধরে হিমেনেজের সঙ্গে কাজ করা তার ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী ছিলেন।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইয়েইসন অরল্যান্ডো হিমেনেজ গালেয়ানো নামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী কলম্বিয়ার ‘মুসিকা পপুলার’ ধারার অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। এই সংগীতধারা মেক্সিকান র্যাঞ্চেরা ও কলম্বিয়ার লোকসংগীতের সংমিশ্রণে গড়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে তিনি বোগোটার মুভিস্টার অ্যারেনায় টানা তিনটি সোল্ডআউট শো করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে হিমেনেজ নিজেই একাধিকবার স্বপ্নে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পূর্বাভাস দেখার কথা বলেছিলেন। কলম্বিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি তিনবার স্বপ্ন দেখেছি যে আমাদের বিমান দুর্ঘটনা হবে। এক স্বপ্নে তো দেখলাম, আমরা মারা গেছি এবং খবরের শিরোনামে এসেছি। ঈশ্বর আমাকে তিনটি সংকেত দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি সেগুলো বুঝতে পারিনি।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি ওই একই বিমানে একটি জরুরি অবতরণও করতে হয়েছিল, যা ঘটেছিল তার ছেলের জন্মের ঠিক কয়েক দিন আগে। উড্ডয়নের পর ইঞ্জিনে সমস্যা, গতি না পাওয়া এবং দোল খাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি বর্ণনা করেছিলেন।
Bekar Barta